ভাষা ও উপভাষা || ভাষা ও উপভাষা সম্পর্কে ধারণা ||উপভাষার শ্রেণিবিভাগ || সাধু ও চলিত ভাষা কাকে বলে
ভাষা ও উপভাষা, ভাষা ও উপভাষা সম্পর্কে ধারণা ,উপভাষার শ্রেণিবিভাগ, সাধু ও চলিত ভাষা কাকে বলে , WBCHSE , একাদশ শ্রেণির প্রথম সেমিস্টার এর বাংলা সিলেবাস , ভাষা থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ আলোচনা এখানে করা হল। Class 11 Bengali syllabus
ভাষা ও উপভাষা
ভাষা:- মানুষের কন্ঠ নিঃসৃত বহুজন বোধ্য ধ্বনির সমষ্টিকে ভাষা বলে, যেমন বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি জার্মান, ইত্যাদি।
উপভাষা:- কোন ভাষার প্রত্যক্ষ ব্যবহারিক রূপকে তার উপভাষা বলে। ভাষাকে দুটোভাবে ব্যবহার করা যায় যথা –
i) মুখে মুখে
ii) লিখে লিখে
তাই উপভাষা হলো দুই প্রকার –
ক) কথ্য উপভাষা ও
খ) লেখ্য উপভাষা
বাংলা উপভাষার শ্রেণিবিভাগটি দেখে নাও-

কথ্য উপভাষা:- কোন একটি অঞ্চলের কথ্য ভাষার আঞ্চলিক যে ভাষাছাদ, তাকেই কথ্য উপভাষা বলে। বাংলা কথ্য উপভাষা পাঁচটি- রাঢ়ী, বরেন্দ্রী, ঝাড়খন্ডি, কামরূপী, বঙ্গালি।
** এখানে বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে যে, কথাটি আগেরকার দিনে অর্থাৎ ডক্টর সুকুমার সেনের আমলে কথ্য উপভাষাকেই সরাসরি উপভাষা বলা হয়েছে।
কিন্তু বর্তমানে উপভাষা হল কোন ভাষার প্রত্যক্ষ ব্যবহারিক রূপ। আর ড: সেন উপভাষার যে সংজ্ঞা দিয়েছেন সেটা এখন কথ্য উপভাষার সংজ্ঞা। – এই নতুনত্বটি মাথায় রাখতে হবে।
বাংলা কথ্য উপভাষা গুলির ভৌগোলিক এলাকা ও সাধারণ পরিচয়:-



– ভাষাতত্ত্ববিদরা বাংলা কথ্য উপভাষার প্রধান পাঁচটি ভাগের কথা বলেছেন। যথা-
১.রাঢ়ী
২.ঝাড়খণ্ডী
৩.বরেন্দ্রী
৪.কামরূপী বা রাজবংশী
৫. বঙ্গালী
এবার লেখ্য উপভাষা ও তাদের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো দেখে নিই চলো-
গদ্য উপভাষা :- লেখ্য উপভাষার ক্ষেত্রে গদ্য রচনার জন্য যে রূপটি ব্যবহৃত হয় তাকে গদ্য উপভাষা বলে । গদ্য উপভাষা দুই প্রকার-
i) সাধু ও
Ii) চলিত
সাধুভাষা:- লেখার জন্য যে কৃত্রিম ও গাম্ভীর্যপূর্ণ ভাষারূপ ব্যবহৃত হয় তাকে সাধু ভাষা বলে। যেমন – তাহারা সকলে আসিয়া উপস্থিত হইলেন।
সাধু রীতির বৈশিষ্ট্যগুলো:
১.তৎসম ও সংস্কৃত শব্দের প্রাধান্য বেশি।
২.সন্ধি ও সমাসবদ্ধ দীর্ঘাকৃতি পদের প্রয়োগ।
৩.ক্রিয়াপদের পূর্ণাঙ্গ রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: করিয়াছি, গিয়াছি।
৪.সর্বনাম পদের পূর্ণাঙ্গ রূপ। যেমন: তাহারা, তাহার, তাহাদের।
৫.অনুসর্গের পূর্ণাঙ্গরূপের ব্যবহার দেখা যায়। যেমন: হইতে, দিয়া প্রভৃতি।
৬ ভাষায় গাম্ভীর্য ও আভিজাত্যের প্রকাশ।
৭. বাক্য গঠনে ও পদবিন্যাসে নিয়মবদ্ধ রীতির অনুসরণ, যেমন- কর্তা কর্মের ক্রমবিন্যাসের পর বাক্যের শেষে ক্রিয়া পদের ব্যবহার ইত্যাদি।
৮. সাধু ভাষার একটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি লেখ্য ভাষা।
চলিতভাষা :- রাঢ় অঞ্চলের ভাগীরথী তীরবর্তী এলাকায় প্রচলিত কথ্য উপভাষাকে মানদণ্ড করে যে কথ্য ভাষার অনুগামী লেখ্য উপভাষা চালু হয়েছে তাকে প্রচলিত ভাষা বা সংক্ষেপে চলিত ভাষা বলে। যেমন – সবাই এসে উপস্থিত হলেন।
চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:-
(১) ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য। ।
(২) অসমাপিকা ক্রিয়ার সংক্ষিপ্ত রূপ, যেমন-করে (< করিয়া), বসে (< বসিয়া), রয়ে (< রহিয়া), চেয়ে (< চাহিয়া), নিয়ে (< লইয়া) ইত্যাদি; সমাপিকা ক্রিয়ার সংক্ষিপ্ত রূপ, যেমন-ছুটছে (< ছুটিতেছে), চলত (< চলিত), পাচ্ছে (< পাইতেছে), করছেন (< করিতেছেন) ইত্যাদি।
(৩) সর্বনাম পদের সংক্ষিপ্ত রূপ, যেমন-তার (< তাহার), তারা (< তাহারা), যারা (< যাহারা) ইত্যাদি।
(৪) অনুসর্গের সংক্ষিপ্ত রূপ, যেমন-বাইরের (< বাহিরের), কাছে (< নিকটে), থেকে (< থাকিয়া), মাঝে (< মধ্যে) ইত্যাদি।
(৫) পদবিন্যাস ও বাক্যগঠনভঙ্গি বিশেষ প্রকৃতির।
(৬) ভাষা কিছুটা লঘু, সাবলীল ও স্বচ্ছন্দ গতিময় যেন জীবন্ত।
পদ্য উপভাষা:-
কাব্য রচনা জন্য যে লেখ্য ভাষারূপে সর্বনাম ও ক্রিয়া পদের বিশেষ পদ্যরূপ ব্যবহৃত হয় তাকে পদ্য উপভাষা বলে। যেমন –
মম(আমার) তব (তোমার), নারি (না পারি), করিনু(করলাম) ইত্যাদি।
পদ্য উপভাষার বৈশিষ্ট্য :-
১। পদ্যের ক্ষেত্রে বাক্যের সাধারণ বিন্যাসক্রম বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রক্ষিত হয় না।
২। পদ্যের ভাষা ছন্দবদ্ধ কাব্যভাষা।
৩। পদ্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ লক্ষিত হয়।
৪। ছন্দ কবিতায় অন্ত্যমিল থাকে।